সরকারি ক্রয়ে বাজার দখল বাড়ছে


সর্বশেষ
| ফজর | |
| জোহর | |
| আসর | |
| মাগরিব | |
| ইশা | |
| সূর্যোদয় | |
| সূর্যাস্ত |

বিএনপির ডাকে দ্বিতীয় দফায় দুই দিনের অবরোধ চলছে। দলটি তাদের আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে বলে দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। দুই দিনের অবরোধের পর ৭ নভেম্বর বিএনপি সরকার বিরোধ কোনো কর্মসূচি রাখবে না। বিএনপি ওই দিনকে সিপাহী ও জনতার বিপ্লব দিবস হিসেবে পালন করবে।
তবে আবার বুধবার এবং বৃহস্পতিবার থেকে দুই দিনের ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ দেবে বলে একাধিক সূত্র বাংলা নিশ্চিত করেছে।
দুই দিনের অবরোধের পর শুক্র ও শনি দুই দিনের বিরতি থাকবে। বিএনপির কোনো কর্মসূচি পালন করবে না। আগামী রোববার থেকে বিএনপি কি ধরনের কর্মসূচি পালন করবে তা নিয়ে একাধিক মতামত পাওয়া গেছে।
বিএনপির একটি সূত্র বলছে, রোববার থেকে বিএনপির অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচি পালন করতে পারে। এই অসহযোগ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হল সরকারের সাথে সব বিষয়ে অসহযোগিতা করা এবং সরকারকে অস্বীকৃতি প্রদান করা হবে। তবে এ ধরনের কর্মসূচি এখনই ঘোষণা করবে নাকি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার পর শুরু করা হবে এ নিয়ে বিএনপির মধ্যে ভিন্ন মত রয়েছে।
বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করছেন যে রোববার থেকে অর্থাৎ ১২ নভেম্বর থেকে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করাটাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে। এই অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে আস্তে আস্তে জনগণকে সম্পৃক্ত করা হবে। আর অন্যদিকে বিএনপির কিছু নেতা মনে করছেন যে এখনই অসহযোগ আন্দোলন না দিয়ে বরং বিএনপিকে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা উচিত। যখন নির্বাচন কমিশন তার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে ঠিক সেই সময় অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা উচিত বলে তারা মনে করছেন।
তবে অসহযোগ আন্দোলন করুক না করুক বিএনপি আন্দোলন বন্ধ করতে চায় না। বরং তারা টানা আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে চায়। কিন্তু এই আন্দোলন ইতোমধ্যে অকার্যকর এবং অর্থহীন হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে গতকাল থেকে যে অবরোধের ডাক দিয়েছে সেই অবরোধ দিনের শুরু থেকেই অকার্যকর হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার তাগিদে বের হয়েছে। সংখ্যার দিক থেকে যানবাহন চলাচল কিছুটা কম হলেও দুপুর গড়াতে গড়াতেই যানবাহনের চলাচল বেড়ে গেছে। বিক্ষিপ্তভাবে কিছুভাবে ভাঙচুর আর রাত্রে গুপ্ত হামলার মতো কিছু গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ছাড়া বিএনপির অসহযোগ আন্দোলনের আর কোনো ছাপ নেই। আর এধরনের গুপ্ত হামলা বা গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার ফলে জনমনে বিএনপির ওপর এক ধরনের বিরক্তি তৈরি হচ্ছে।
বিএনপি ক্রমশ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন। তাই এই ধরনের কর্মসূচি কতটুকু কার্যকর হবে বা এ ধরনের কর্মসূচি করে বিএনপি আসলে কি অর্জন করতে চায় তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এ ব্যাপারে অসহায়। বিএনপির অন্তত দুজন নেতা বলেছেন যে আমরা এ ধরনের কর্মসূচিতে যেতে রাজি নই। কিন্তু লন্ডনে পলাতক দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া এই কর্মসূচির ধারা অব্যাহত রাখার জন্য ইতোমধ্যে চাপ দিচ্ছেন। আর এই সমস্ত চাপের কারণে বিএনপিকে কর্মসূচি দিতে হচ্ছে। বিএনপির বিভিন্ন নেতা মনে করছেন এখন থেকে এ ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হলে জানুয়ারিতে যদি নির্বাচন হয় তাহলে নির্বাচন পর্যন্ত এই কর্মসূচি ধরে রাখা অসম্ভব ব্যাপার।
তবে বিএনপির কোনো কোনো নেতা মনে করছেন যে এ ধরনের কর্মসূচি কিছুদিন থাকলেই সরকারের টনক নড়বে, আন্তর্জাতিক চাপ বাড়বে। এবং তখন সরকার বিএনপির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা বা সমঝোতার জন্য রাজি হতে পারে। এরকম একটি আশাবাদ থেকে বিএনপির কেউ কেউ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পক্ষপাতি। তবে এ ধরনের কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে অস্তিত্বহীন করবে কিনা এই প্রশ্নটিই এখন ক্রমশ বড় হয়ে উঠেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার প্রধান হারুন অর রশীদ মঙ্গলবার রাত ৯টায় এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, পুলিশ হত্যার মামলায় বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
হারুন অর রশীদ বলেন, গত ২৮ অক্টোবরে মহাসমাবেশের নামে সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় দায়ের করা বেশ কয়েটি মামলার আসামি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তিনি আরও জানান, বিএনপির এ দুই নেতাকেই শাহজাহানপুর থানার শহীদবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে সকালে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
এদিন এ মামলার সাফাই সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে আসামি মির্জা আব্বাস ও সাফাই সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হয়ে সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন না মঞ্জুর করে মির্জা আব্বাসের জামিন বাতিল করেন। একই সঙ্গে এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ২ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।
মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সংগতিবিহীন ৭ কোটি ৫৪ লাখ ৩২ হাজার ২৯০ টাকার সম্পদ অর্জন এবং ৫৭ লাখ ২৬ হাজার ৫৭১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ১৬ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক মো. শফিউল আলম রাজধানীর রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. খায়রুল হুদা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ৪ কোটি ২৩ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন ও ২২ লাখ টাকার সম্পত্তির তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।
২০০৮ সালের ১৬ জুন আদালত এ মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এ মামলার বিচার চলাকালীন আদালত ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

রাজধানীর শহীদ বাগের ঢাকা ব্যাংক শাখা থেকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ অক্টোবর) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে সকাল থেকে তার শাহজাহানপুরের বাসা ঘিরে রেখেছিল পুলিশ।
সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬ এর মঞ্জুরুল ইমামের আদালতের তার জামিন বাতিল করে এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এদিন এ মামলার সাফাই সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে আসামি মির্জা আব্বাস ও সাফাই সাক্ষীরা আদালতে উপস্থিত না হয়ে সময়ের আবেদন করেন। আদালত সময়ের আবেদন না মঞ্জুর করে মির্জা আব্বাসের জামিন বাতিল করেন। একই সঙ্গে এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ২ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।
মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সংগতিবিহীন ৭ কোটি ৫৪ লাখ ৩২ হাজার ২৯০ টাকার সম্পদ অর্জন এবং ৫৭ লাখ ২৬ হাজার ৫৭১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৭ সালের ১৬ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক মো. শফিউল আলম রাজধানীর রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. খায়রুল হুদা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ৪ কোটি ২৩ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন ও ২২ লাখ টাকার সম্পত্তির তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়।
২০০৮ সালের ১৬ জুন আদালত এ মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এ মামলার বিচার চলাকালীন আদালত ২৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

কালাজ্বর নির্মূলে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে ভারতের দিল্লীতে চার দিনব্যাপী আয়োজিত ডব্লিউএইচওর ৭৬তম দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সম্মেলনে বাংলাদেশকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের হাতে এই স্বীকৃতির সনদপত্র তুলে দেন ডব্লিউএইচও’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পুনম খেত্রপাল। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে সনদ পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, এর আগে বাংলাদেশ ফাইলেরিয়া ও পোলিও নির্মূল করে সনদ পেয়েছিল। এবার কালাজ্বর নির্মূলে বিশ্বে প্রথম হওয়ায় এটি একটি জাতিগতও প্রশংসিত অর্জন হয়েছে। এ অর্জনে দেশের স্বাস্থ্যখাতসহ আমরা সবাই গর্বিত। স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই অর্জনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ পরামর্শ ও নির্দেশনার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান।
জাহিদ মালেক বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় কমিউনিটি ক্লিনিক এখন ভরসার জায়গা হতে পেরেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য শেখ হাসিনার বিশেষ অবদান দেশের ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রায় ৬ হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে। ধীরে ধীরে দেশের দুর্গম এলাকাতেও প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক। তিনি বলেন, ক্লিনিকগুলো থেকে বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ দেয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি গ্রামের মায়েদের নিরাপদে সন্তান প্রসবের ক্ষেত্রেও কমিউনিটি ক্লিনিক কাজে লাগছে। এর সুফল হিসেবে গত কয়েক বছরের জরিপে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যু হার প্রতি লাখে ৩২০ জন থেকে হ্রাস পেয়ে এখন ১৬৩ জনে নেমেছে। একইভাবে প্রতি হাজার জীবিত শিশুর মৃত্যুহার ৬৫ জন থেকে হ্রাস পেয়ে ২৮ জনে নেমে এসেছে।
সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি জাতিসংঘ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কমিউনিটি ক্লিনিক ধারণা স্বীকৃতি পেয়েছে। এছাড়া মন্ত্রী বাংলাদেশের মাতৃমৃত্যু হার হ্রাস, শিশুমৃত্যু হার হ্রাস করা, গড় আয়ু বৃদ্ধি ও করোনা প্রতিরোধী টিকাদানে বাংলাদেশের ৯৮ ভাগ সফলতার বিষয়টি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি করোনাকালে ১৫ হাজার চিকিৎসক ও ২৫ হাজার নার্সসহ প্রায় দেড় লাখ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, পূর্ব-তিমুর ও উত্তর কোরিয়াসহ ১১টি দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব জাহাঙ্গীর আলম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শাহাদত খন্দকার, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।

টানা ৭২ ঘণ্টার বিরোধী দলগুলোর ডাকা সর্বাত্মক অবরোধ শুরু হয়েছে। অবরোধের সর্মথনে সারাদেশে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি। এসময় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশের গুলিতে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ছাত্রদল নেতা রেফায়েত উল্লাহ ও কৃষকদল নেতা বিল্লাল মিয়া নিহত হয়। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার যুবদল নেতা দিলু আহমেদ জিলুকে গাড়ী চাপা দিয়ে হত্যা করা হয় বলে জানায় বিএনপি। সারাদেশে অসংখ্য নেতাকর্মী আহত ও গ্রেপ্তার হয়েছে।
অবরোধে শুরু থেকেই মাঠে ছিলো বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছেসেবক দল, কৃষকদল, শ্রমিক দল, ছাত্রদলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সারাদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেল পথে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। পিকেটিং করে। বিভিন্ন জায়গা গাড়ি ভাংচুর ও গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনাও ঘটে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচিতে উন্মত্ত হায়েনার মতো হামলা চালিয়েছে পুলিশ। অস্ত্রসজ্জিত পুলিশ যে তান্ডবলীলা চালাচ্ছে, এটি কোনো সংঘর্ষ নয়, সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। লক্ষ-লক্ষ গণতন্ত্রকামী মানুষের বিরুদ্ধে মুষ্টিমেয় কিছু অস্ত্রধারীর এই মানবাধিকার লঙ্ঘন দেশে-বিদেশে ধিকৃত।
তিনি বলেন, বিএনপির নিরস্ত্র নেতা-কর্মীদের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ চালাচ্ছে পুলিশ-র্যাব-বিজিবির একটি উচ্ছিষ্টভোগী অংশ। আফগানিস্তানের যুদ্ধক্ষেত্রের মতো নির্বিচারে ও বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করছে বুলেটের গুলি, টিয়ার শেল, লাঠি চার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড, আর্মড ভেহিকল ও অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র। সশস্ত্র আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গণবিরোধী আক্রমণে যুক্ত হয়েছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী। আওয়ামী লীগের এই দুষ্কৃতিকারীরা আঘাত করছে স্টিলের পাইপ, লাঠিসোটা, বাঁশ, স্ট্যাম্প, হকিস্টিক, কাঠ ও চাপাতি দিয়ে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, যৌথভাবে আওয়ামী লীগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চালিয়ে যাচ্ছে আগুন সন্ত্রাস, পুড়াচ্ছে একের পর এক যানবাহন ও স্থাপনা। তাদের লক্ষ্য সবার কাছে পরিষ্কার, নিজেরা নানা দেশবিরোধী অঘটন ঘটিয়ে তার বেনিফিশিয়ারি হিসেবে বিএনপির সকল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলার প্রহসনমূলক গ্রেপ্তার ও রায় নিশ্চিত করা।
দেশে চলমান বিচারহীনতা, অপশাসন, সীমাহীন দুর্নীতি, অনাচার, অর্থ পাচার ও সিন্ডিকেটবাজীর ফলে দ্রব্যমূল্যের অব্যাহত ঊর্ধ্বগতিতে বিপর্যস্ত জনগণের জীবন জীবিকা রক্ষার স্বার্থে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষে আয়োজিত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশে হামলা, নেতা-কর্মীদের হত্যা, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ আন্দোলনরত বিভিন্ন দলের সহস্রাধিক নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, বাড়ি বাড়ি তল্লাশি, হয়রানি ও নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষে আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে নভেম্বর দেশব্যাপী সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।
বিএনপির পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, এলডিপি, এবি পার্টিসহ কয়েকটি দল ও জোট অবরোধ কর্মসূচি পালন ও সমর্থন করেছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসি কার্যালয়ের সচিব জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ৪ নভেম্বর ৪৪টি দলের সঙ্গে কমিশন বসবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতির ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোকে জানাতে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি সচিব বলেন, সংলাপের জন্য দলগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বা তাদের নির্ধারণ করা দুই প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানাবে নির্বাচন কমিশন। নিবন্ধিত সবগুলো দলকে দুই ভাগে সংলাপের জন্য ডাকা হবে।
নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। বিএনপি চাইছে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হতে হবে। অন্যদিকে বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনের ব্যাপারে অনড় রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এই ইস্যুতে বিএনপির চলমান আন্দোলনের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে সংলাপে বসার উদ্যোগের কথা জানাল ইসি।
আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও জনমত পক্ষে টানতে কয়েক মাস ধরে সারা দেশে সমাবেশ ও পাল্টা-সমাবেশের কর্মসূচি দিচ্ছে।
সংবিধান অনুযায়ী সংসদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ নির্বাচন হতে হবে। বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৯ জানুয়ারি। হিসাব অনুযায়ী, ৯০ দিনের গণনা শুরু হবে ১ নভেম্বর থেকে।
নির্বাচন কমিশন নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তফসিল ঘোষণা ও জানুয়ারির প্রথম দিকে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। তবে বিএনপি ও আটটি বিরোধী দল ওই সংলাপে অংশ নেয়নি। তারা বলছে, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পক্ষে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়।
চলতি বছরের মার্চে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বিএনপিকে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে আধা সরকারি চিঠি দিয়েছিলেন। তবে বিএনপি ওই আমন্ত্রণে সাড়া দেয়নি।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ১৬৬ এবং বিএনপি সর্বোচ্চ ১৩৭টি আসন পেতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান ড. আবুল বারকাত।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত এক সেমিনারে একটি গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশকালে এ তথ্য প্রকাশ করেন ড. আবুল বারকাত।
স্বাধীনতার পর থেকে দেশের প্রতিটি নির্বাচন বিশ্লেষণ করেছেন এই অর্থনীতিবিদ। একইসঙ্গে কথা বলেছেন ভোটারদের সঙ্গেও। এসবের আলোকে তিনি একা পরিচালনা করেছেন 'ভোটারের মন ও আসন্ন ২০২৪ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল' শীর্ষক গবেষণা।
দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে ড. আবুল বারকাত জানান, গত প্রায় ছয় মাস যাবৎ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে এবং পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলো বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা সম্পন্ন করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, 'আমার এই গবেষণার সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক নেই। অনেকে ভাবতে পারেন, সামনে দেশে যা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে তার সঙ্গে হয়তো এই গবেষণা ফলাফল প্রকাশের সম্পর্ক আছে। তাদের নিশ্চিত করতে চাই, বিষয়টি এমন নয়। একেবারে ব্যক্তি আগ্রহ থেকে ছয় মাস আগে আমি এই গবেষণা শুরু করেছিলাম।'
গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ করে ড. বারকাত বলেন, 'আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দল, প্রার্থী ও ভোটারের জন্য নির্বাচনী মাঠ সমান হলে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৪৮ থেকে ১৬৬টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ১১৯ থেকে ১৩৭টি এবং অন্যান্য দল ১৫টি আসন পেতে পারে।'
তিনি বলেন, 'দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫৫টি আসনের ভাগ্য মোটামুটি নির্ধারিত। এগুলো দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ভিত্তি আসন। এই ১৫৫টি ভিত্তি আসনের মধ্যে ৭০টি পেতে পারে আওয়ামী লীগ, ৭০টি বিএনপি এবং বাকি ১৫টি জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, এলডিপি ও বিজেপি পেতে পারে।'
তিনি আরও বলেন, 'তবে বড় দুই দলের মধ্যে যেকোনো দলকে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় বাকি ৮১টি আসন পেতে হলে দোদুল্যমান ভোটারদের ভোটের ওপর নির্ভর করতে হবে এবং যেকোনো আসনে জিততে হলে দোদুল্যমান ভোটারদের ৫৬ শতাংশ ভোট পেতে হবে।'
গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৫৫টি ভিত্তি আসনের বাইরে থাকা ১৪৫টি আসনই নির্ধারণ করবে যে কোন দল সরকার গঠন করবে। ভিত্তি আসনে দোদুল্যমান ভোটারদের ভূমিকা থাকবে কম। তবে, বাকি ১৪৫টি আসনে ভাগ্য নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা থাকবে দোদুল্যমান ভোটারদের।
ড. বারকাত দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, এই ১৪৫টি আসনের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশা ও বয়সের ভোটারদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করে তিনি দোদুল্যমান ভোটারদের চিন্তা বোঝার চেষ্টা করেছেন।
সেই আলোকে তার গবেষণায় উঠে এসেছে, এই ১৪৫টি বিজয় অনিশ্চিত আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭৮ থেকে ৯৬টি আসন এবং বিএনপি ৪৯ থেকে ৬৭টি আসন পেতে পারে।
আসন্ন নির্বাচনে দেশের দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর ভোটারদের মাঝে পদ্মা সেতু একটি বড় নিয়ামক হতে পারে উল্লেখ করে তিনি জানান, এই অঞ্চলের ২৩টি বিজয় অনিশ্চিত আসনের সবগুলো আওয়ামী লীগ পেতে পারে।
এ ছাড়া, ঢাকাসহ দেশের পূর্ব-পশ্চিম-উত্তর অঞ্চলের ১২২টি বিজয় অনিশ্চিত আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৫৫ থেকে ৭৩টি এবং বিএনপি ৪৯ থেকে ৬৭টি আসন পেতে পারে বলে উঠে এসেছে এই গবেষণায়।
ড. বারকাত দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এই গবেষণার জন্য এ যাবৎ হওয়া সবগুলো নির্বাচনের প্রার্থীদের তালিকা আমি বিশ্লেষণ করেছি। এই সংখ্যা ১৬ হাজারের বেশি। নির্বাচনে প্রত্যেক প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন সেটা বের করেছি।'
তিনি বলেন, 'নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন প্রার্থী কত সৎ তার কোনো সম্পর্ক নেই। ভোটাররা চিন্তা করেন কোনো বিপদে পড়লে কার কাছে গিয়ে সহযোগিতা পেতে পারেন, তাকেই তারা ভোট দিতে চান।'
তার ভাষ্য, 'দোদুল্যমান ভোটাররা ভোট দেওয়ার সময় অর্থপাচার থেকে শুরু করে এত বড় বড় বিষয় নিয়ে ভাবেন না। তাদের কাছে গুরুত্ব পায় দ্রব্যমূল্য, মানব নিরাপত্তা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মতো বিষয়। এবার এর সঙ্গে পদ্মা সেতু, ২০১৮ সালের নির্বাচন এবং স্যাংশন‑নিষেধাজ্ঞা‑ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের যুদ্ধ একটি অবজেক্টিভ ফ্যাক্টর ও সংশ্লিষ্ট কাউন্টার‑ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে।'
'একই সঙ্গে তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে আত্মীয়তা, বন্ধুবান্ধব, ঘনিষ্ঠজন, মুরুব্বিদের উপদেশ‑আদেশ‑নির্দেশ এবং নারীদের ক্ষেত্রে পিতৃতান্ত্রিকতা সাবজেক্টিভ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে,' যোগ করেন তিনি।
অধ্যাপক আবুল বারকাত জানান, ভোটারের সম্ভাব্য দলীয় আনুগত্য অবস্থা, ভিত্তি ভোট বা দলীয় অনুগত ভোটারের ভোটের ধারণা, ভিত্তি আসনের ধারণা, বিজয় অনিশ্চিত আসনের ধারণা, দোদুল্যমান ভোট, দোদুল্যমান ভোটারদের ভোট প্রদান সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনের ফ্যাক্টর-কাউন্টার ফ্যাক্টর এবং এসবের সম্ভাব্য প্রভাব ও গতিমুখ, ভোটারদের ভৌগলিক অবস্থান বিভাজন (পদ্মা সেতুর প্রভাব অঞ্চল এবং তার বাইরের অঞ্চল) ব্যাখ্যা‑বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ খোলামেলা আলাপ‑আলোচনার ভিত্তিতে এই গবেষণা করা হয়েছে।
ড. বারকাত বলেন, 'এই সম্ভাব্য ফলাফল সঠিক হলে আওয়ামী লীগের জোটবদ্ধভাবে সরকার গঠনের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এ ক্ষেত্রে জোট হতে পারে জাতীয় পার্টির সঙ্গে। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষে এককভাবেও সরকার গঠন সম্ভব হতে পারে, যদি তারা সর্বোচ্চ সংখ্যক সম্ভাব্য আসন পায়।'
তিনি বলেন, 'সম্ভাব্য চূড়ান্ত ফলাফল বহাল থাকলে বিএনপির পক্ষে এককভাবে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নেই। তবে বিএনপির পক্ষে জোটবদ্ধ সরকার গঠনের সম্ভাবনা যতটুকু আছে, তা যথেষ্ট শর্তসাপেক্ষ। এ ক্ষেত্রে বিএনপিকে অবশ্যই সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন নিশ্চিত করতে হবে এবং জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বাকি সব দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হতে হবে। একইসঙ্গে এই সমীকরণের অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের আসন সংখ্যা কোনো অবস্থাতেই সম্ভাব্য সর্বনিম্ন সংখ্যক আসনের বেশি হতে পারবে না। এত বেশি শর্তসাপেক্ষ বিধায় বিএনপির পক্ষে জোটবদ্ধ সরকার গঠনের বাস্তব সম্ভাবনা ক্ষীণ।'
অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আরও বলেন, 'সম্ভাব্য এই হিসাব কতটা সঠিক বা ভুল তা বুঝতে তিনটি বড় মাপের চলকের—ভিত্তি ভোট, ভিত্তি আসন ও দোদুল্যমান ভোটারদের ভোট প্রদান সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য কাঠামো—সম্ভাব্য মান যৌক্তিকভাবে পরিবর্তন করে দেখা গেছে যে, তাতে করে দলভিত্তিক আসন বণ্টনে এমন কোনো হেরফের হয় না, যাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তিত হতে পারে। সুতরাং, আসন্ন ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য আসনসংখ্যার যে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, তা যথেষ্ট মাত্রায় সঠিক এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী ফলাফল সংশ্লিষ্ট গৃহীত পদ্ধতিতত্ত্ব যথেষ্ট বিজ্ঞানসম্মত।'

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে টানটান উত্তেজনা চলছে। ২৮ অক্টোবর বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে রাজপথে কোন ধরনের অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করলে দলীয়ভাবে মোকাবেলা করে কঠিন জবাব দেয়ার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে সংগঠনের সকল সকল স্তরের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠন নেতারা উপস্থিত ছিলেন। একান্ত ওই বৈঠকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপির কর্মসূচির বিপরীতে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশের মাধ্যমে রাজপথে সতর্ক পাহারায় থাকবে আওয়ামী লীগ। বিএনপি কর্মসূচির নামে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করলে ক্ষমতাশীল দলের পক্ষ থেকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। যেকোনো অরাজক পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনগণের জানমালের নিরাপত্তার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করার কৌশলী হবে আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে দলের নেতাকর্মীদের সর্বত্র প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ মনে করে, বিএনপি এবার কর্মসূচির নামে কোন ষড়যন্ত্র করার অপচেষ্টা করলে যেকোনো মূল্যে তাদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।
আজকের বৈঠক সূত্র জানায়, আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপিকে রাজপথে কোনো ধরনের ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। সরকারের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ধাারাবাহিতা ধরে রাখার লক্ষ্যে সাংগঠনিকভাবে যেকোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করবে তারা। বিএনপি নেতাকর্মীরা সারাদেশ থেকে ঢাকায় জড়ো হচ্ছে। তারা রাজধানীসহ ঢাকার পাশ্ববর্তী জেলাগুলোতে অবস্থান করছেন। তারা যাতে কোনো ধরনের অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে দলের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। শহরের কোথায় কোন বাসা বা স্থানে অপরিচিত বা সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দিয়ে ধরিয়ে দেওয়ারও গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। সমাবেশের দিন বিএনপি যদি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন না করে কোনো ধরনের সহিংসতা করলেই আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবে। প্রয়োজনের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত প্রতিনিধি দেওয়া হয়েছে দলীয় নেতা কর্মীদের।
আওয়ামী লীগের দুজন সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, বিএনপি যেহেতু ২৮ অক্টোবর সারাদেশ থেকে ঢাকা এবং আশপাশে এলাকায় তাদের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে। তাই সেদিন ক্ষমতাসীন দলের কোন নেতা কোথায়, কোন দিকে অবস্থান করবে সে বিষয়েও নির্দেশনা এসেছে বৈঠকে।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, এস এম কামাল, সাংস্কৃতিক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ মহানগর আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের পদত্যাগ দাবিতে ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। বুধবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপি আয়োজিত জনসমাবেশে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, মহাসমাবেশ থেকে মহাযাত্রা শুরু করবে বিএনপি। যুগপৎভাবে মহাসমাবেশ করবে। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ফিরে যাব না। অনেক বাধা আসবে, বিপত্তি আসবে। সব বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছুটে যেতে হবে।
সরকার পতনের একদফা দাবিতে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম। সমাবেশ শেষে বিএনপি মহাসচিব ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়ে বলেন, এ মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে আমাদের মহাযাত্রা শুরু হবে।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, এখনও সময় আছে পূজার মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেন, স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়বেন নাকি জনগণের আন্দোলনে বিতাড়িত হবেন। আজকে এই লাখো জনতার এ সমাবেশ আপনাকে বার্তা দিয়েছে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) আর নেই। এই সরকার আর থাকবে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আজকেও দেখলাম প্রথম আলোর ভুয়া পেজ খুলে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তাদের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। আজকের এই লাখো জনতার উপস্থিতি প্রমাণ করে এই প্রপাগান্ডা জনগণ বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, যখনই আমাদের সমাবেশ হয় তখনই নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
আজকের সমাবেশকে কেন্দ্র ২৫০ জনেরও বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ থেকে প্রমাণ হয়, সরকার ভীতু হয়েছে। তাদের পায়ের নিচে কোনো মাটি নেই। ভয় থেকেই সরকার এগুলো করছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার বলছে সংবিধানের বাইরে যাবে না। সংবিধান কাটাছেঁড়া করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। কথায় কথায় সংবিধানের দোহাই দেয়। আজকে রাষ্ট্রপতি দেশের বাইরে। সংবিধান অনুযায়ী কাউকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দিতে হয়। আসলে এই সংবিধান এক পরিবারের জন্য উৎসর্গ করা হয়েছে। সংবিধানের কথা বলে সারাদেশকে সহিংস রাজনীতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার।
তিনি বলেন, আজকের এই সমাবেশে অনেক জেলা থেকে সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা ছুটে এসেছে। কারণ, তারা নতুন কর্মসূচি চায়। তারা উদগ্রীব হয়ে আছে কখন এ সরকার বিদায় নেবে। হামলা মামলা জনগণ ভয় পায় না। কোনো কিছু করে দেশের মানুষকে ঠেকিয়ে রাখা যাবে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে গতকালও দেখতে গিয়েছিলাম। ডাক্তাররা বলেছেন তাঁকে বাঁচাতে হলে অবিলম্বে বিদেশে চিকিৎসার কোনো বিকল্প নাই। তাকে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মিথ্যা মামলা দিয়ে ৯৬ জন নেতাকে সাজা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা হচ্ছে, সাজা দিতে পারলে মাঠ পরিস্কার। দেশের মানুষ আপনাদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য পাঁচ বছরে একদিনই জনগণ ভোটের অধিকার পায়, কিন্তু ২০১৪ ও ১৮ সালে সে অধিকারগুলো কেড়ে নিয়েছে। এ সরকারের কোনো ভিত্তি নেই। এখনো বলছি ক্ষমতা ছাড়ুন। আজকে মানুষ জেগে ওঠেছে। এই জাগ্রত জনতা ফুসে ওঠার আগে জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন।
ঢাকা অবরোধ করতে এলে শাপলা চত্বরে হেফাজতের যে অবস্থা হয়েছিল বিএনপিকে তার চেয়েও করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে- আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, বিএনপি তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। মনে রাখতে হবে, হেফাজত আর বিএনপি এক নয়।
২০১৩ সালে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতের অবস্থান নিয়ে ওবায়দুল কাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মন্তব্য করে মির্জা আব্বাস বলেন, আপনি (ওবায়দুল কাদের) বলছেন শাপলা চত্বরের মত অবস্থা হবে। তার মানে আপনি স্বীকার করলেন সেদিন আপনারই হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছেন। তবে মনে রাখবেন, হেফাজত আর আমরা এক নয়। তিনি বলেন, বলা হচ্ছে- আমরা নাকি ১৮ তারিখে ঢাকায় বসে পড়বো। আমি বলতে চাই- আমাদের বসার কোনো পরিকল্পনা নাই।
সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখে মির্জা আব্বাস বলেন, এত গ্রেফতারে কি আন্দোলন থেমে গেছে? নেতাকর্মীরা গ্রেফতারে ভয় পায় না। গতকাল (মঙ্গলবার) একটি বিশেষ শ্রেণির সভা হয়েছে। সেখানে বিরোধী নেতাকর্মীদের দমন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব করে কোনো কাজ হবে না। ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণ রাস্তায় নেমে গেছে। আপনারা কত অপকর্ম করেছেন, কত চুরি করছেন জনগণ তা জেনে গেছে। আপনারা বলছেন- বাড়াবাড়ি করবেন না। বাড়াবাড়ি তো আপনারা করছেন। পুলিশ নিয়ে অহংকার করছেন। এত অহংকার ভালো না। প্রধানমন্ত্রী বলছেন- তারেক রহমান কোথায়? আপনার স্বামী ওয়াজেদ মিয়া যখন মারা গেলেন তখন আপনার সন্তানেরা কোথায় ছিলো- প্রশ্ন রাখেন মির্জা আব্বাস।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি আলোচনায় অংশ নিতে চায়। তবে সেটা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকতে হবে না। আমির খসরু বলেন, মানুষ বাড়ি হারিয়েছে, সন্তান হারিয়েছে তারা আর অপেক্ষা করতে চায় না। তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন আর এই সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আর অপেক্ষা করতে চায় না। শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশর সংবিধান ইচ্ছা মতো কাটা ছেড়া করা হয়েছে। তাই সংবিধানের দোহাই দিয়ে সরকার টিকে থাকতে পারবে না। বিএনপির এই নেতা বলেন, জনগণ রাস্তায় নেমে এসেছে সরকারের পদত্যাগ না ঘটিয়ে ঘরে ফিরে যাবে না।
নেতাকর্মীদের তৈরি থাকার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, সময় সমাগত রেডি থাকেন। সবাইকে তৈরি থাকতে হবে। যার যা আছে তাই নিয়ে তৈরি থাকুন। দুদু বলেন, যারা আমার নেত্রীকে কারাবন্দি করে রেখেছে, আমাদের নেতাকে বিদেশে থাকতে বাধ্য করছে তাদের মসনদ ভেঙে চুরমার করে ফেলতে হবে। বাংলাদেশ মুক্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে উল্লেখ করে দুদু বলেন, শুধু একটু ধাক্কা দিতে হবে। এখানে(নয়াপল্টন) খালেদা জিয়াকে নিয়ে আসবো। সবাই তৈরি আছেন তো?
দলের আরেক ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, যে কোনও সময় গণঅভ্যুত্থান হবে। শেখ হাসিনার পতন অবশ্যম্ভাবী। আরেক ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর বলেন, ঢাকাবাসী এই সরকারের পতনের জন্য আপনারা তৈরি আছেন তো? এই দেশের মানুষ যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। আগামীতে তারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে।
ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হক এবং দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব লিটন মাহমুদের সঞ্চালনায় এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, বরকত উল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফরহাদ হালিম ডোনার, হাবিবুর রহমান হাবিব, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন। আরও বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আ ন ম সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

সরকারের পদত্যাগ দাবিতে ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বুধবার বিকেলে সরকারের পদত্যাগ দাবিতে নয়াপল্টনে বিএনপি আয়োজিত জনসমাবেশে তিনি এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, মহাসমাবেশ থেকে মহাযাত্রা শুরু করবে বিএনপি। যুগপৎভাবে মহাসমাবেশ করবে।
এর আগে দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সমাবেশ শুরু হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিনুল হক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব লিটন মাহমুদের পরিচালনায় অন্যান্য নেতারা উপস্থিত আছেন।
সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বেগম খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তির দাবিতে এই জনসমাবেশ শুরু হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, সমাবেশকে ঘিরে সকাল ১০টা থেকেই নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে আসতে থাকেন। বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যেই নয়াপল্টন, বিজয়নগর, ফকিরাপুল, শান্তিনগর, কাকরাইল এলাকা পূর্ণ হতে থাকে।
সরকারের পদত্যাগ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, খালেদা জিয়ার মুক্তি ইত্যাদি লেখা ব্যানার বহন করে দলীয় কর্মীরা রাস্তায় রাস্তায়, মোড়ে মোড়ে এমনকি এসব এলাকার আশপাশের অলিগলিতে মিছিল করেছে।

দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তথ্য সংগ্রহ করেন আবু হানিফ তুষার ওরফে হানিফ মিয়া (৩৯)। এর মধ্যে যাদের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম, তাদেরকে টার্গেট করা হতো। পরে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের নিকটাত্মীয় পরিচয় দিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তাদের কাছে ৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত দাবি করতেন। কোনো প্রার্থীর সঙ্গে দেখা করার প্রয়োজন হলে ফাইভ স্টার হোটেলে ডাকতেন। এ সময় দামী গাড়িতে করে সেখানে যেতেন। ইতোমধ্যে মনোনয়ন পেতে ১০-১১ জন তার সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে হানিফ মিয়া নামের এই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, অ্যামুনেশন, গাড়ি ও বিভিন্ন ভিডিও এবং এডিট করা ছবি উদ্ধার করা হয়। তার বাড়ি বাহ্মণবাড়িয়ার কসবা এলাকায়।
বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
র্যাব জানায়, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নসহ পদোন্নতির আশ্বাস দিয়ে সরকারি কর্মকর্তার কাছে মোটা অংকের অর্থ দাবি করতেন ওই ব্যক্তি। এর পাশাপাশি সরকারি চাকরি, রাজনৈতিক দলের পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে ৩০ জনকে চাকরি পাইয়ে দেওয়াসহ প্রতারণার মাধ্যমে পাঁচ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আবু হানিফ দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের নিকটাত্মীয় হিসেবে মিথ্যা পরিচয় ও সুসম্পর্কের কথা বলে বিভিন্ন ধরণের প্রতারণা করছিলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রাপ্তির মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করছিলেন। এ ছাড়াও আবু হানিফ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেন।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন অ্যাপস থেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্য সেজে পদে পদায়ন ও পদোন্নতি, সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়া সংক্রান্ত ও বিভিন্ন অংকের অর্থ দাবি সংক্রান্ত বার্তা নিজেরাই নিজ চক্রের সদস্যদের সঙ্গে আদান-প্রদান করতেন। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজের ছবি এডিট করে বসাতেন এবং নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সদস্যদের নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে বলে মিথ্যা দাবি করে তা টার্গেট করা ব্যক্তিকে পাঠাতেন। সে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে তার টার্গেট করা ব্যক্তিকে দেখাতেন।
খন্দকার আল মঈন বলেন, আবু হানিফ এইচএসসি পাশ হলেও তিনি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন বলে মিথ্যা পরিচয় দিতেন। ২০০৮ সালে মটরপার্টস এর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হয়। পরিবহন সেক্টরে দেশের বিভিন্ন রুটে তুষার এন্টারপ্রাইজ পরিবহন নামে তার বেশ কয়েকটি বাস ও নিজের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য প্রাইভেট কার রয়েছে। তিনি ঢাকার নাখালপাড়া এবং ধানমন্ডি এলাকায় দলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছে বলে মিথ্যা প্রচার-প্রচারণা চালাতেন।
র্যাব জানায়, ২০১৪ সালের পর থেকে একজন সুপরিচিত রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণার শুরু করেন হানিফ মিয়া। তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কৌশলে রাজনৈতিবিদ, উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে নিজের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে পরিচিত হয়। পরে সুসম্পর্ক তৈরি করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অফিস বা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে ছবি তোলে এবং প্রতারণার কাজে এই ছবিগুলো ব্যবহার করতেন। ২০১৫ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুক একাউন্ট খোলেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে, অনুষ্ঠান, সেমিনারে অংশগ্রহণ এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন সময় ভ্রমণ করে ছবি তুলে তা ফেসবুকে আপলোডের মাধ্যমে তার ফেইসবুক একাউন্ট এর পরিচিতি ও দেশে-বিদেশে তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করেন।
এ ছাড়া ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠান স্পন্সর করে বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সান্নিধ্যে আসা, প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জমি ও সম্পত্তির মালিক হওয়া, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকায় তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে একাধিক মামলা রয়েছে এবং ওই মামলায় একাধিকবার কারাভোগও করেছেন এই প্রতারক।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাবের মুখপাত্র বলেন, বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা জানতে পেরেছি ১০-১২ জনকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন হানিফ। প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়ের কথা বলে মিথ্যা অপপ্রচার করতেন তিনি। ২০১৫ সালে হানিফ যে ব্যক্তির পিএস হিসেবে কাজ করতেন তাকেও মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেন। তিনি এভাবে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় চলাফেরা ও তাদের সঙ্গে ছবি রয়েছে এ বিষয়ে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশেপাশে যে ছবিগুলো রয়েছে সেগুলো এডিট করা হয়েছে বলে হানিফ স্বীকার করেছেন। নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করতে এগুলো তৈরি করেছেন। এই এডিট ছবিগুলো দেখিয়ে তিনি অনেকের সন্নিকটে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই ছবিগুলো দেখিয়ে ও প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়র কথা বলে কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি অভিনব কৌশল অবলম্বন করে পরিচিত হন। কোনো কোনো টিভি চ্যানেলেও তিনি গিয়েছেন। এভাবে তিনি বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের সঙ্গে প্রতারণার করেছেন। আরও যারা এ ধরনের প্রতারণা করছেন তাদের বিরুদ্ধে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে।

সরকারের পদত্যাগ, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে এলেও কার্যত বিএনপির আন্দোলন সরকারের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। বিএনপির আন্দোলনের ধরন বা আন্দোলন করার সক্ষমতা নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের উপহাসের পাত্রও হতে হয়েছে। ‘ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলন’ এক যুগ ধরে বিএনপি নেতাদের এমন হুংকার প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরলেও এবার তারা আসন্ন দুর্গাপূজার পর চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা শহরকেন্দ্রিক নানামুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দলটি। কর্মসূচি সফল করতে রাজধানীতে ১০ লাখ লোক সমাগমের টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছেন দলের শীর্ষ নেতারা।
দলটির নেতারা জানান, চূড়ান্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নে সুবিধা অসুবিধা সবকিছুই বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। পূজার পর আর গতানুগতিক কর্মসূচি নয়, সরকারের পতন ঘটাতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা হবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে সরকার পতনের নতুন কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকবে বিএনপি। নেতাকর্মীরা এটিকে সরকার পতনের শেষ ধাপের কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন। নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে চাইছেন বিএনপি নেতারা। কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে এরই মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি চলমান যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সঙ্গেও দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে।
জানা গেছে, আগামী ১৮ অক্টোবর বিএনপি ঢাকায় যে সমাবেশ করতে যাচ্ছে সেখান থেকে সরকারকে পদত্যাগের জন্য সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হবে। পূজার পর ২৮ অক্টোবর থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য মাঠে নামার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা ঘিরে সরকার পতনের যাবতীয় কর্মসূচি চিন্তা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত কর্মসূচিতে ছাত্র, যুব, পেশাজীবীসহ সরকারবিরোধী সবাইকে সম্পৃক্ত করতে জোর চেষ্টা চলছে। চূড়ান্ত কর্মসূচি সফল করতে ঢাকা মহানগরসহ আশপাশের জেলার সব পর্যায়ের নেতাদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ মেয়াদি এ কর্মসূচির জন্য ১০ লাখ লোক সমাগমের টার্গেট করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, ‘আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে সরকার পতনের নতুন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে বিএনপিসহ সমমনা সংগঠনগুলো। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন, সচিবালয়, আদালত ঘেরাও বা এসব প্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান, মহাসড়ক অবরোধসহ ঢাকার প্রবেশদ্বারগুলোতে অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, এবারের চূড়ান্ত কর্মসূচি হবে রাজধানীজুড়ে। বিশেষ করে ঢাকার প্রবেশদ্বারসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো দখলের চেষ্টা থাকবে আন্দোলনকারীদের। কর্মসূচিতে রাজধানীর চার প্রবেশমুখে উত্তরা-গাবতলী এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী ২৫ হাজার করে এক লাখ, মহাখালী-ফার্মগেট-শাহবাগ-নয়াপল্টন এলাকায় এক লাখ করে চার লাখ, আদালত-সচিবালয়-প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে ৫ লাখ— সব মিলিয়ে চূড়ান্ত কর্মসূচিতে ১০ লাখ লোকের সমাগম করতে চায় বিএনপি। চূড়ান্ত বিজয় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের। রাজপথে অবস্থান নেওয়া নেতাকর্মীদের নিয়মিত খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে।
চূড়ান্ত আন্দোলন কর্মসূচি পালনে বেশকিছু সুবিধা ও চ্যালেঞ্জ নিয়েও ভাবছে বিএনপি। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পশ্চিমাদের অবস্থান, দেড় দশক ধরে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের ঘুরে দাঁড়ানো, মাদক, দুর্নীতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি— এসব আন্দোলনের জন্য সহায়ক হবে বলে ভাবছে দলটি।
অন্যদিকে, পশ্চিমাবিরোধী বলয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিজ্ঞতা-দূরদর্শিতা, রাষ্ট্রযন্ত্র বা পুলিশের গুলি চ্যালেঞ্জ করার মতো নেতাকর্মীর অভাব এসব বিষয় আন্দোলনের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করছেন। অন্যদিকে বিএনপির ঢাকার কেন্দ্রীয় এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো অগোছালো নেতৃত্বের কারণে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা, নেতৃত্বের সংকট, দলের মধ্যকার নেতাদের সরকারপ্রীতি, শিগগির দলের নেতাদের সম্ভাব্য কারাবাস- সবকিছু বিবেচনায় রেখে চূড়ান্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথা ভাবা হচ্ছে। সবকিছু বিবেচনায় রেখেই আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চূড়ান্ত আন্দোলনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব আমিনুল হক বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে দুর্গাপূজার পর আন্দোলন কর্মসূচি আসছে। সেই কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। এবারের কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি থাকবে।
গত ২৯ জুলাইয়ের কর্মসূচির মতো আগামী কর্মসূচি যদি ব্যর্থ হয় সেক্ষেত্রে কী হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবার সেই সুযোগ হবে না। ফুটবলের মতো এবার ‘ডু অর ডাই’ খেলবো। দেশের মানুষ জেগে উঠেছে। গণতান্ত্রিক বিশ্ব তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এবার আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।
চলমান কর্মসূচিতে দাবি আদায় হবে কি না জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, দুর্গাপূজার পরে নতুন কর্মসূচি আসছে। সেটা গতানুগতিক কর্মসূচি হবে না। কঠিন এবং কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। সেই আন্দোলন ব্যর্থ হলে কী হবে- এমন প্রশ্নে আলাল বলেন, সেটা পরে দেখা যাবে। যারা একতরফা নির্বাচনের চেষ্টা করছে, সেটাও আন্দোলন। সুতরাং তারাও তো ব্যর্থ হতে পারে। দেখা যাক।
চূড়ান্ত কর্মসূচির বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, দুর্গাপূজার পর কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে সরকারের পতন ঠেকানো যাবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, দুর্গাপূজার ছুটি শেষে যে কোনো দিন থেকে সরকার পতনের লাগাতার কর্মসূচি পালন শুরু হবে। সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। কর্মসূচির বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়কের দাবি মানতে সরকারকে বাধ্য করা হবে। আন্দোলন চলছে, যথাসময়ে আন্দোলনের ধরন পরিবর্তনে গতি বাড়ানো হবে।
বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কমিটির প্রধান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দল আন্দোলনে আছে। সামনে দাবি মানার জন্য সব ধরনের কর্মসূচি আসবে।
বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, সরকারের পতন ঘটানোর জন্য এক সপ্তাহের আন্দোলন যথেষ্ট। এটা পূজার পর দেখতে পাবেন। হরতাল, অবরোধ, ঘেরাও সবই দেখতে পারবেন। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। সরকারের পতন তফসিল ঘোষণা করা না করার ওপর নির্ভর করে না।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংলাপ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল একটা বিবৃতি দিয়েছেন। এ বিবৃতির প্রধান কথা সংলাপ। সেটার জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন- আমরা তখনই আলোচনায় বসতে রাজি আছি, যখন বিএনপি সমস্ত শর্ত বাদ দিয়ে আলোচনা আসবে। আমার প্রশ্ন, আপনারা কি সাংবিধানিকভাবে বৈধ? এটা আপনাদেরকে প্রমাণ করতে হবে। সবার আগে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং সরকারের পদত্যাগের একদফা দাবিতে আয়োজিত যুব সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। যুবদলের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ দলটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনো প্রতিনিধি দল নয়। এ দলটি হচ্ছে সম্পূর্ণ স্বাধীন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রধান দল রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট পার্টির থিংক ট্যাঙ্ক তারা পাঠিয়েছে যে, বাংলাদেশে কোনো নির্বাচনের পরিস্থিতি আছে কি-না দেখতে। আর নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বড় কোনো টিম পাঠাবে কি-না, এটা দেখাও তাদের উদ্দেশ্য ছিল। তারা ৫ দিন বাংলাদেশের নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, সম্পাদক, নির্বাচন কমিশন, সরকার এবং আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা একটা বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তারা ৫টি সুপারিশ করেছেন। এর মধ্যে প্রধান কথা হচ্ছে সংলাপ।
ফখরুল বলেন, বিবৃতির জবাব দিতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, তারা তখনই আলোচনায় বসতে রাজি আছেন, যখন বিএনপি সব শর্ত বাদ দিয়ে আলোচনা আসবে। সবার আগে আওয়ামী লীগের কাছে আমার যে প্রশ্ন, আপনারা যে কথা বলছেন, ওই সরকারে যে বসে আছেন, আপনারা কি সাংবিধানিকভাবে বৈধ? এটা আপনাদের প্রমাণ করতে হবে। আমি প্রমাণ করছি যে, আপনি সাংবিধানিকভাবে বৈধ নন, অবৈধ। সংবিধান পরিবর্তন করে পঞ্চদশ সংশোধনী দিয়েছেন সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে। অবৈধভাবে আপনি ক্ষমতা দখল করে বসে আছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকে যে বলছেন সংবিধানের ভিত্তিতে হতেই হবে, তাহলে সবার আগে আপনাকে পদত্যাগ করতে হবে। কারণ আপনি অবৈধভাবে আছেন। ভূতের মুখে রাম নাম শোভা পায় না। আপনি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে, জোর করে ক্ষমতায় আছেন। আমাদের কথা পরিষ্কার, আগে পদত্যাগ করেন, সংসদকে বিলুপ্ত করেন, নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দেন এবং একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে তাদের মাধ্যমে নির্বাচনে আসেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে, বিচার বিভাগ, প্রশাসনসহ সবকিছু দলীয়করণ করছে। পুলিশ সদস্যদের বলতে চাই, আমরা জানি আপনারা বেআইনি কাজ করতে চান না। আমরা জানি আপনারা আইনের শাসন মেনে কাজ করতে চান। এই আওয়ামী লীগ আপনাদের সংবিধানকে দূরে রেখে, আইনের শাসন দূরে রেখে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন করতে বাধ্য করে।
যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপি নেতা বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুস সালাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে জনগণের ভোট দেয়ার বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করবে বলে প্রত্যাশা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
সোমবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সফররত যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আখতারের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট জ্যৈষ্ঠ কর্মকর্তা। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা অণুবিভাগের মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস তাদের ফেসবুকে এক বার্তায় জানায়, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্র অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়।
মার্কিন দূতাবাস জানায়, আফরিন আখতারের সঙ্গে পররাষ্ট্র সচিবের বৈঠকে প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের সাম্প্রতিক সফরের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
এছাড়াও দুই দেশের বহুমুখী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য, দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সমর্থনসহ বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে তাদের ভোট দেবে, যেটা নিশ্চিত করবে সরকার।
তিন দিনের সফরে সোমবার ঢাকায় আসেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আফরিন আক্তার। মঙ্গলবার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন ও সুশীল সমাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।
আফরিন আখতার নেপাল, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভুটান ও মালদ্বীপের জন্য দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর (এসসিএ) পাশাপাশি নিরাপত্তা ও ট্রান্সন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অফিসের একজন ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। তিনি মার্কিন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।
এর আগে গত বছরের মে মাসে ঢাকায় এসেছিলেন এ ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি। ওই সময়ে তিনি ঢাকায় ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে যোগ দেন। তার আগে ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রথম ঢাকা সফর করেন আফরিন।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২০০১ সালের নির্বাচনে খালেদা জিয়া গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় গিয়েছিল। আমাকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তখন আমি বলেছিলাম- আমি শেখ মুজিবের মেয়ে। ক্ষমতার লোভ করি না, জনগণের স্বপ্ন বেচি না।
শনিবার বিকেলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া পাকিস্তানের ধারাবাহিকতা নিয়ে চলতে চেয়েছিল। জাতির পিতার হত্যাকারীকে ভোট চুরি করে পার্লামেন্টে বসিয়েছিল। আর আল বদর, রাজাকার, যুদ্ধাপরাধী, যারা এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে, মা-বোনকে ধরে নিয়ে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে দিয়েছে, তাদের ক্ষমতায় বসিয়েছিল। জিয়াও বসিয়েছিল, এরশাদও, খালেদা জিয়াও। কাজেই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে এদের কোনো অবদান নেই। তারা সেটা করতেও চায় না। এটাই হচ্ছে সব থেকে দুর্ভাগ্যের বিষয়।
জিয়ার সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করা আর স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতায় বসানোর কাজ করেছে। সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে। এদের জন্ম হয়েছে হত্যার মধ্য দিয়ে। ষড়যন্ত্র করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবসহ পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে। আমার বাবার সঙ্গে দায়িত্বরত অফিসারদেরও হত্যা করেছে। জিয়া ও এরশাদের ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন আদালত। ওই অবৈধ দখলদারদের দোসর বিএনপি-জামায়াত আজ বাংলোদেশে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা বাংলাদেশের উন্নতি সহ্য করে না।
তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে ভোট চুরির অপরাধে খালেদা জিয়াকে আন্দোলনের মাধ্যমে মাত্র দেড় মাসে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল। জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করেছি। নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার করেছি। আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এ দেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০১ সালের নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিলেও ক্ষমতায় যেতে পারিনি। সে নির্বাচনে খালেদা জিয়া গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় গিয়েছিল। আমাকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তখন আমি বলেছিলাম- আমি শেখ মুজিবের মেয়ে। ক্ষমতার লোভ করি না, জনগণের স্বপ্ন বেচি না।
আওয়ামী লীগ অনেক সংগ্রামের পথ বেয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলে একটা দেশের যে উন্নতি হয়, যারা গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে তারা ক্ষমতা থাকলে যে দেশের জন্য উন্নতি হয়, আজ আমরা সেটা প্রমাণ করেছি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীদের অনশনকে ‘নাটক’ বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা তার (খালেদা জিয়া) বিদেশে চিকিৎসার দাবি নিয়ে অনশন করে। তারা কয়টা থেকে অনশন শুরু করেছে? বাসা থেকে কী দিয়ে নাস্তা করে এসেছে, কী দিয়ে দুপুরে গিয়ে খাবে? কয় ঘণ্টার অনশন? নাটক করার-তো একটা সীমা থাকে। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এতই অসুস্থ, তিনি নাকি মারা যাবেন। হ্যাঁ বয়স হয়েছে, আবার অসুস্থও বটে। কিন্তু তিনি এত অসুস্থ হলে তার ছেলে তাকে দেখতে আসে না কেন? এটা কেমন ছেলে?
নৌকা মার্কা স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়েছে, খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়েছে। আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই বস্তির মানুষ বিনা পয়সায় ঘর পাচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা আমরা পেয়েছি। কিন্তু অন্য কেউ ক্ষমতায় আসলে সব ধ্বংস করে দিবে। ওই স্বাধীনতাবিরোধীদের কথা কেউ শুনতে চায় না। নৌকা মার্কা স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়েছে, খাদ্য উৎপাদন বাড়িয়েছে। তিনি বলেন, আজ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই বস্তির মানুষ বিনা পয়সায় ঘর পাচ্ছে। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা কমিউনিটি ক্লিনিকে বিনা পয়সায় চিকিৎসা দিচ্ছি। ঢাকা শহরে উত্তর দক্ষিণ হিসাব করে হাসপাতাল করে দিয়েছি। আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করে দিচ্ছি।
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঢাকার যানজট নিরসন করতে আমরা ভবিষ্যতে পুরো ঢাকা ঘিরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করে দিব। এই প্রকল্পে কারও জমি অধিগ্রহণ করা হবে না। যানজট দূর করার জন্য ইতোমধ্যে আমরা মেট্রোরেল নির্মাণ করেছি। পর্যায়ক্রমে এই মেট্রোরেল উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত চলবে। পাতাল রেলের প্রকল্পের কাজ চালু করেছি। ঢাকায় সার্কুলার ওয়াটার রোড নির্মাণ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা ভবিষ্যতে পুরো ঢাকা ঘিরে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করে দিব। এই প্রকল্পে কারও জমি অধিগ্রহণ করা হবে না।
এর আগে দুপুর থেকেই জনসভায় নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন কাওলা মাঠে। বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের উদ্বোধনের দিন এ সমাবেশ করার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারিখ পরিবর্তন করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচির সঞ্চালনায় এতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারা অংশ নেন।
সমাবেশ উপলক্ষে দুপুর থেকে রাজধানী ঢাকা, এর আশপাশের জেলা এবং ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সমাবেশে আসতে থাকেন। সমাবেশে আসা ব্যক্তিদের অধিকাংশ বাহারি রঙের টি–শার্ট, টুপি পরে আসেন। ব্যানার-ফেস্টুনে ছিল নির্বাচনী আমেজ। বিকেলের দিকে পুরো মাঠ ভরে বিমানবন্দর সড়কেও জনসভায় আসা মানুষের ভিড় দেখা যায়। বাস, ট্রাক সড়কের পাশে রাখার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের নেতারা বারবার বলছেন তলে তলে সব হয়ে গেছে। কেন বলেন? আসলে কিছুই হয় নাই। গণতান্ত্রিক গোটা বিশ্ব আজকে তাদের ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার জন্য পরিষ্কার করে বলছে। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে বলছে।
শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির যৌথ উদ্যোগে অনশনে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে ঢাকায় ৩ ঘণ্টা অনশন করে দলটি। অনশন শুরু হয় বেলা ১১টায়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনশন শেষ হয়। কর্মসূচিতে সিনিয়র নেতারা মঞ্চে চেয়ারে বসে অনশন করেন। অন্য নেতাকর্মীরা রাস্তায় ও মঞ্চে অবস্থান নেন। কর্মসূচিতে বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, যুগপৎ আন্দোলনের দল ও জোট নেতা, সাবেক নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তা, সেনা কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্যে রাখেন।
বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের পর দুপুর ২টার দিকে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের জুস ও পানি পান করিয়ে অনশন ভাঙান লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী ও প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ।
মির্জা ফখরুল বলেন, সকল নেতা অনশন কর্মসূচিতে শুধু সংহতি প্রকাশ করেননি। তারা প্রতিজ্ঞা করেছেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত না করে এবং সরকারকে বিদায় না তারা কেউ বিশ্রাম নেবেন না। এই সরকার অনির্বাচিত সরকার। তারা ঘোষণা দেয় বিএনপির আমাদের শত্রু। অর্থাৎ তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। গণতন্ত্র বিশ্বাস করলে কোনো রাজনৈতিক দলকে তারা শত্রু বলতে পারে না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না। শুক্রবার নরসিংদীতে দুই ছাত্র নেতাকে আইন-কানুন ভঙ্গ করে গ্রেপ্তার করেছে।
খালেদা জিয়া ও গণতন্ত্রের মুক্তি একই সূত্রে গাঁথা মন্তব্য করে তিনি বলেন, এজন্য সামনে দিনগুলোতে আমাদের দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সামনে পূজা আছে। এই পূজার মধ্যে আমরা সব সময়ই বলেছি, আমরা শান্তিপূর্ণ অসাস্প্রদায়িক ব্যবস্থায় বিশ্বাস করি।
আমরা চাই না, সেই আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে তারা আবার সেই সমস্যা তৈরি করুক। ইতিমধ্যে করেছে। গতকাল কুমিল্লায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশ বাধা দিয়েছে। তারপর আওয়ামী লীগ বাধা দিয়েছে। অনেকে আহত হয়েছে। আমরা অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়েছি। এখন আমাদের সামনে লক্ষ্য একটাই, আমাদের দেশ, অর্থনীতি ও মানুষ এবং খালেদা জিয়াসহ সকল রাজনৈতিক কর্মীদের বাঁচাতে হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে পরাজিত করা ছাড়া বিকল্প নাই। সেই লক্ষ্যে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।